বিপা চৌধুরী প্রতিবেদক, বিডিঅনলাইন ম্যাগাজিন,Published. Mon.May, 11,. 2026.,
2,15, am
গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া এক তরুণ নাম ছিল তার মাসুদ রানা। ১৯৯৯ সালে সোয়ানুর রহমান সোহানের হাত ধরে মাসুদ রানা তৈরি হয় আজকের শাকিব খান। সোহানুর রহমান সোহান এর অনন্ত ভালোবাসা ছবিটি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। একবার সোয়ানুর রহমান সোহান বলেছিলেন, শাকিবের খোজ আমাকে দিয়েছিল নিত্য পরিচালক আজিজ রেজা। স্টিল ছবি পাঠিয়েছিল প্রথমে। খুব করে অনুরোধ করেছিল শাকিবকে নেওয়ার জন্য । ওর জোড়াজুরির কারণে সামনাসামনি ছেলেটিকে দেখতে চাইলাম। আমাদের অফিসে আজিজ রেজা ওকে নিয়ে এসেছিল। দেখেই আমাদের পছন্দ হয়েছিল । শাকিবের ভেতর যোগ্যতা ছিল নায়ক হবার । ওর মধ্যে এমন কিছু দেখেছি বলেই তাকে সিনেমায় নিয়েছিলাম। কেউ হয়তো তাকে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে বা আমি সুযোগটা দিয়েছি। তবে আসল কথা হচ্ছে ও যোগ্য ছিল।
শাকিব খান 1999 সালে প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন সবাই তো সুখি হতে চাই চলচ্চিত্রে । আফতাব খান টুলু পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এতে তার বিপরিতে ছিলেন আর এক নবাগতা নায়িকা কারিশমা শেখ । শাকিব খান অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র সোয়ানুর রহমান সোহান পরিচালিত অনন্ত ভালোবাসা , যা ১৯৯৯ সালের ২৮ মে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন অভিনয় শিল্পী মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন জামান। অনন্ত ভালোবাসা খুব একটা সফল না হলেও নায়ক হিসেবে শাকিব খান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অভিনয় জীবনের দ্বিতীয় বছরেই তিনি সে সময়ের শীর্ষ অভিনেত্রী শাবনূরের বিপরীতে ইস্পাহানী-আরিফ জাহান পরিচালিত গোলাম (২০০০) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আলোচিত হন। এই বছর তিনি এজে রানা পরিচালিত আজকের দাপট চলচ্চিত্রে পূর্ণিমার বিপরীতে, আবু সাঈদ খান পরিচালিত দুজন দুজনার চলচ্চিত্রে পপির বিপরীতে, এবং দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত বিষে ভরা নাগিন চলচ্চিত্রে মুনমুনের বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন।
২০০১ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত শিকারী, স্বপ্নের বাসর, মায়ের জেহাদ, রাঙ্গা মাস্তান, হিংসার পতন, বন্ধু যখন শত্রু চলচ্চিত্রগুলো। এফ আই মানিক পরিচালিত স্বপ্নের বাসর চলচ্চিত্রে রিয়াজ ও শাবনূরের পাশাপাশি তার অভিনয়ও প্রশংসিত হয়। ২০০২ সালে মুক্তি পায় এফ আই মানিক পরিচালিত ফুল নেব না অশ্রু নেব ও স্ত্রীর মর্যাদা, শাহাদাত হোসেন লিটন পরিচালিত ও প্রিয়া তুমি কোথায়, জিল্লুর রহমানের নাচনেওয়ালী এবং বাদল খন্দকারের বিশ্ব বাটপার। স্ত্রীর মর্যাদা চলচ্চিত্রটিতে তিনি প্রথম মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করেন।
২০০৩ সালে অভিনয় করেন সাহসী মানুষ চাই, প্রাণের মানুষ, ক্ষমতার দাপট, ও সবার উপরে প্রেম চলচ্চিত্রে। এ বছর তার অভিনীত মহম্মদ হান্নান পরিচালিত সাহসী মানুষ চাই চলচ্চিত্রটি বেশ প্রশংসিত হয় এবং দুটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।২০০৪ সালে তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে নয়ন ভরা জল, আজকের সমাজ, বস্তির রানী সুরিয়া, রুখে দাড়াও উল্লেখযোগ্য। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত এমএ রহিম পরিচালিত সিটি টেরর। এ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনেতা মান্নার সঙ্গে অভিনয় করেন। এছাড়া শাহীন-সুমন পরিচালিত বাধা চলচ্চিত্রে রিয়াজ ও পূর্ণিমার সাথে অভিনয় করেন।
২০০৬ সালে তার অভিনীত ১৩টি চলচ্চিত্র মুক্তি পায় এবং সেগুলো এই বছরের সেরা ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ছিল। এই সাফল্যের ফলে তার পারিশ্রমিক তিন লাখ থেকে ছয়-সাত লাখে উত্তীর্ণ হয়।[৩০] তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প সুভা অবলম্বনে নির্মিত চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত সুভা চলচ্চিত্রে পূর্ণিমার বিপরীতে অভিনয় করেন। এ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ২০০৭ সালে প্রদত্ত লাক্স-চ্যানেল আই পারফরম্যান্স পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে দর্শক জরিপ ও সমালোচক উভয় শাখায় মনোনীত হন। একই বছর মুক্তি পায় এফ আই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন, পিতার আসন, দাদীমা ও চাচ্চু, ঢাকার পোলা বরিশাইল্যা মাইয়া এবং দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত মায়ের মর্যাদা। কোটি টাকার কাবিন চলচ্চিত্রটিতে তিনি প্রথম অপু বিশ্বাসের বিপরীতে অভিনয় করেন। চাচ্চু চলচ্চিত্র দিয়ে শাকিব খান প্রথম জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
২০০৭ সালে শাকিব অভিনীত ১২টি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। পূর্ববর্তী বছরের মত এই বছরও তার চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসাসফল হয়। তার অভিনীত পিএ কাজলের আমার প্রাণের স্বামী চলচ্চিত্রটি সুপারহিট হয় এবং তিনি এতে অভিনয় করে তিনি সমালোচক শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে প্রথম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন। এই চলচ্চিত্রের সফলতার পর তার পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১২ লাখে। এছাড়া এই বছর তিনি কাবিননামা, যমজ, স্বামীর সংসার, ডাক্তার বাড়ি, তুই যদি আমার হইতি রে, কথা দাও সাথী হবে, দানব সন্তান, কপাল, মা আমার স্বর্গ, কঠিন প্রেম ও এক বুক জ্বালা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
তিনি অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস দেবদাস অবলম্বনে নির্মিত দেবদাস চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম, এতে শাকিব খানের বিপরীতে পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস এবং চন্দ্রমুখী চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী।
শিকারি, রানা পাগলা – দ্য মেন্টাল, সম্রাট। যৌথ প্রযোজনার শিকারি পরিচালনা করেন বাংলাদেশের জাকির হোসেন সীমান্ত ও ভারতের জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। চলচ্চিত্রে টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সাথে প্রথম জুটি বেঁধে সমাদৃত হন, এছাড়াও তার সঙ্গে সব্যসাচী চক্রবর্তী, রাহুল দেব ও খরাজ মুখার্জীর মতো অভিনেতাদের দেখা যায়। চলচ্চিত্রে তার নতুন অবয়ব দর্শক ও সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসা কুড়ায়।এটি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার তকমা পায় এবং ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলা চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করে নেয়।
ধীরে ধীরে সেদিনের সেই মাসুদ রানা হয়ে ওঠে আজকের শাকিব খান। শুরুর পথটা মোটেও সহজ ছিল না তার। তবুও তিনি হার মানেননি। একের পর এক চ্যালেঞ্জ, ব্যর্থতা, সমালোচনাকে পেছনে ফেলে তিনি গরেছেন তার নিজের সম্রাজ্য। দিন রাত পরিশ্রম আর ত্যাগ দিয়ে এক সাধারণ যুবক হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য অসাধারন এক তারকা। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া গুলিস্তান থেকে গুলশান সবখানে যেন একটাই নাম শাকিব খান।
সাফল্য তাকে কখনো থামায়নি বরং নতুন স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। প্রতিটি চরিত্র প্রতিটি চলচ্চিত্রে প্রতিটি চরিত্রে তিনি নতুন ভাবে নিজেকে চিনিয়েছেন। কোটি মানুষের ভালবাসায় আজ তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন একটি অনুভূতির নাম।
তিনি প্রমাণ করেছেন কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে সবকিছুই সম্ভব। স্বপ্ন দেখতে জানলে আর সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে জানলে সাফল্য একদিন ধরা দেবেই তার জ্বলন্ত উদাহরণ আজকের শাকিব খান।












Leave a Reply