সুপারস্টার থেকে রকস্টার শাকিব খান মানেই যেন মুগ্ধতা

বিপা চৌধুরী প্রতিবেদক বিডি-অনলাইন ম্যাগাজিন ডটকম, Published Fri, May, 22, 2026, 1048, AM

 

ঢালিউডের সুপারস্টার থেকে এবার যেন সত্যিকারের রকস্টার হয়ে উঠছেন শাকিব খান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষস্থান ধরে রাখা এই অভিনেতার ক্যারিয়ার শুধু জনপ্রিয়তার নয় বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে ফেলার এক বিরল উদাহরণ ও।

২৬ বছরের দীর্ঘ পথ চলায় তিনি দেখেছেন সিঙ্গেল স্কিনের স্বর্ণযুগ, মাল্টিপ্লেক্সের উত্থান, ওটিটির বিস্তার , এবং দর্শকের রুচির বড় পরিবর্তন।

কিন্তু পরিবর্তনের এই স্রোতের মাঝেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন অসাধারণ স্থিরতায়।

এক সময় বছরে দশ থেকে বারোটি সিনেমায় অভিনয় করেও যেমন ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, এখন বছরে দুই ঈদে দুটি সিনেমা করেও তিনিই থাকছেন টলিউডের প্রধান আকর্ষণ।

 

কত ঈদে মুক্তি পাওয়া তার সিনেমা প্রিন্স প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাইনি। বড় বাজেট, জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা, এবং দর্শকদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও না না কারণে সিনেমাটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি। তবে ব্যর্থতার ছাপ যেন স্পর্শই করতে পারেনি শাকিব খানকে । কারণ তিনি জানেন, ঢালিউডে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় কৌশল হচ্ছে থেমে না থাকা।

 

প্রিন্সের পরপরই তিনি শুরু করেন নতুন সিনেমা রকস্টার এর কাজ। নামের মধ্যেই রয়েছে তারকা খ্যাতি, সংগীত, উন্মাদনা আর স্টাইলের আভাস। তবে সিনেমাটির গল্পের থেকেও বেশি আলোচনায় এসেছে শাকিব খানের বদলে যাওয়া উপস্থিতি।

অ্যানিমেশন টিজার, প্রথম টিজার এবং গান প্রকাশের পর সম্প্রতি প্রকাশিত দ্বিতীয় টিজারে দেখা গেছে একেবারে নতুন এক শাকিব খানকে। ছিপছিপে, মেদহীন, আরো স্টাইলিশ এবং আত্মবিশ্বাসী। গত কয়েক বছরের তার সিনেমাগুলোতে যে শারীরিক ভারিক্কি ভাব দেখা গিয়েছিল, রকস্টারে এসে যেন সেখান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছেন তিনি। তার হাঁটা, চোখের অভিব্যক্তি, লুক কিংবা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সবকিছুতেই রয়েছে নতুনত্বের ইঙ্গিত।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রিন্স যতটা হতাশ করেছে রকস্টার ততটাই আশাবাদী করছে দর্শককে। অনেকেই সিনেমাটিকে শাকিব খানের নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের এক বিশেষ প্রকল্প হিসেবে দেখছেন। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তিনি যেন আবারও বুঝিয়ে দিচ্ছেন জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে হয়।

 

শুধু লুক নয়, চরিত্রটির জন্য নিজের জীবন যাপন ও পরিবর্তন এনেছেন এই অভিনেতা। খাদ্য অভ্যাস, শরীর চর্চা, এবং স্টাইল সবকিছুতেই ছিল বাড়তি মনোযোগ। কারণ তিনি জানতেন, রকস্টারের দর্শক শুধু একটি গল্প দেখবে না তারা দেখবেন একজন সুপারস্টার নতুনভাবে ফিরে আসাও।

সিনেমাটির নির্মাতা আজমান রুশো যিনি সংগীত চর্চা ও বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। ছবিটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর। ফলে মুক্তির আগেই সিনেমাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।

শাকিব খানকে নিয়ে প্রায় আলোচনা উঠে এই বুঝি তার সময় শেষ। কিন্তু প্রতিবারই তিনি নতুনভাবে ফিরে এসে সেই আলোচনা কে ভুল প্রমাণ করেন। ৫০ ছুইছুই বয়সেও চলনে বলনে এখনো তিনি নিজেকে সেই তরুণ শাকিব ই করে রেখেছেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে বহু তারকার জনপ্রিয়তা একসময় থেমে গেলেও শাকিব খান যেন ঠিক উল্টো পথে হাঁটছেন। যখনই মনে হয় তার আর কিছু দেখানোর নেই তখনই তিনি হাজির হন নতুন এক চমক নিয়ে। অতীতেও মানুষ মুগ্ধ হয়েছে শাকিবে এখনো মানুষ মুগ্ধ হচ্ছে সেই শাকিব খানেই । শাকিব খান মানেই যেন মুগ্ধতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *